নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
রাশিয়ার তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞায় দেওয়া অস্থায়ী ওয়েভারের (ছাড়) মেয়াদ শেষে প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ। এতে সমুদ্রপথে আটকে থাকা রুশ অপরিশোধিত তেল কেনার যে এক মাসের বিশেষ সুবিধা ছিল, তা বন্ধ হয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন আগে এই জরুরি ছাড় চালু করেছিল বিশ্ব জ্বালানি বাজারে তীব্র সরবরাহ সংকট স্থিতিশীল করার জন্য। যুদ্ধ-সংক্রান্ত ধাক্কা এবং সরবরাহ ব্যাঘাতের কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটে। সেই পরিস্থিতিতে ভারতসহ বড় ক্রেতারা আটকে থাকা রুশ তেল ব্যবহার করে সংকট কিছুটা সামাল দিয়েছিল।
এই অস্থায়ী ছাড় শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন বিশ্বব্যাপী তেলের সরবরাহ আরও সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রেও পেট্রোলের দাম—যা ইতিমধ্যে গ্যালনপ্রতি প্রায় ৪.৫০ ডলারের কাছাকাছি—আরও চাপের মুখে পড়তে পারে।
ভারত এই সময়কালে রাশিয়া থেকে দৈনিক প্রায় ২.৩ মিলিয়ন ব্যারেল পর্যন্ত তেল আমদানি করেছিল, যা এখন বিকল্প উৎস থেকে সংগ্রহ করতে হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সরবরাহ সংকোচনের এই নতুন ধাক্কা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বেঞ্চমার্ক মূল্যকে আরও ঊর্ধ্বমুখী করতে পারে, বিশেষ করে যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে।